এক দশক আগে যা অকল্পনীয় ছিল, ইউরোপের ডিজিটাল-উন্নত দেশ সুইডেন এখন সেই পথেই হাঁটছে। ক্লাসরুমে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের অতি-ব্যবহার কমিয়ে দেশটি আবারও কাগজ-কলম এবং মুদ্রিত পাঠ্যবইয়ের চিরাচরিত পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুইডেনের এই ‘ডিজিটাল রিথিংক’ বা নতুন করে ভাবনার বিষয়টি বাংলাদেশের মতো উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতির দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।
সুইডিশ নীতিনির্ধারকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের গভীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং পড়ার দক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ডিজিটাল দক্ষতাও আশানুরূপ নয়। ফলে ‘স্মার্ট’ ক্লাসরুমের চেয়ে এখন পড়া, লেখা ও অনুধাবনের মতো বুনিয়াদি শিক্ষায় বেশি জোর দিচ্ছে সুইডেন।
সুইডেন যখন প্রযুক্তির ব্যবহার কমাচ্ছে, বাংলাদেশ তখন শিক্ষার ডিজিটালকরণের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে বিবিএস (BBS)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনো ডিজিটাল ডিভাইড প্রকট। শহরে ইন্টারনেটের ব্যবহার ৭৫.৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩.৬ শতাংশ। এছাড়া কম্পিউটার ব্যবহারের হার মাত্র ১১.৩ শতাংশ এবং আইসিটি দক্ষতা মূলত ‘কপি-পেস্ট’-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ৮৬ শতাংশ শিশু স্ক্রিন নির্ভর হয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সরকার ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ ও ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’-এর মতো বড় উদ্যোগ নিলেও প্রশ্ন উঠেছে এর কার্যকারিতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে সব স্কুলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, ব্ল্যাকবোর্ড বা দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে, সেখানে কেবল ব্যয়বহুল স্মার্ট বোর্ড কোনো সুফল আনবে না। প্রযুক্তি কখনোই একজন দক্ষ শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না।
সুইডেন ডিজিটালকরণের চরম সীমায় পৌঁছে এখন সংশোধনের পথে হাঁটছে। বাংলাদেশ যেহেতু এই পথের শুরুতে, তাই সুইডেনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ‘হাইব্রিড’ মডেল অনুসরণ করা প্রয়োজন। যেখানে প্রযুক্তির সুবিধা থাকবে ঠিকই, কিন্তু তা যেন শিক্ষার্থীর মৌলিক চিন্তাশক্তি ও মনোযোগের ক্ষমতাকে গ্রাস করতে না পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার


