ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। ফিনল্যান্ডের পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মোট ১৪,১৬৮ জনকে ফিনিশ নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২,৬০০ জন বেশি এবং দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ নাগরিকত্ব প্রদানের নতুন রেকর্ড।
পরিসংখ্যান বলছে, নতুন ফিনিশ নাগরিকদের গড় বয়স মাত্র ২৯ বছর, যার মধ্যে ১ হাজার ২০০ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী। লিঙ্গভেদে নতুন নাগরিকদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা ৭,৫১১ এবং পুরুষদের সংখ্যা ৬,৬৫৭ জন। গত বছর ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শীর্ষ তিনটি দেশ হলো ইরাক (১,৯০০ জন), রাশিয়া (১,৫০০ জন) এবং সিরিয়া (১,৩০০ জন)।
নতুন ফিনিশ নাগরিকদের মধ্যে ৯২ শতাংশ মানুষই তাদের আগের নাগরিকত্ব ত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে ফিনল্যান্ডে প্রায় ১ লক্ষ ৯৮ হাজার মানুষ দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করছেন। এদের অধিকাংশ ফিনল্যান্ডের পাশাপাশি রাশিয়া, ইরাক, সুইডেন, সোমালিয়া এবং এস্তোনিয়ার নাগরিকত্বও বহাল রেখেছেন। মূলত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত সুবিধার কথা মাথায় রেখেই প্রবাসীরা দ্বৈত নাগরিকত্বের পথে হাঁটছেন।
রেকর্ড সংখ্যক মানুষ নাগরিকত্ব পেলেও ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া আরও কঠিন করার ইঙ্গিত দিয়েছে ফিনল্যান্ড সরকার। ইতিমধ্যে বসবাসের ন্যূনতম সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এখন আবেদনকারীর আর্থিক স্বচ্ছলতা ও আয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া আবেদনকারীর আইনি রেকর্ড বা ‘ইন্টিগ্রিটি’ অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে যাচাই করা হচ্ছে। শীঘ্রই সরকার একটি ‘সিটিজেনশিপ টেস্ট’ বা নাগরিকত্ব পরীক্ষা চালু করতে যাচ্ছে, যা উত্তীর্ণ হওয়া আবেদনকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। মূলত দেশের নিরাপত্তা ও সংহতি বজায় রাখতেই এই নতুন ও কঠোর নিয়মগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ওয়ায়এলই


