ইউরোপের দেশ পর্তুগালে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার শর্ত নজিরবিহীনভাবে কঠোর করে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। গত ১৮ই মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত সরকারি গ্যাজেট অনুযায়ী, এখন থেকে অধিকাংশ বিদেশী নাগরিককে পর্তুগিজ নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য অন্তত ১০ বছর বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করতে হবে। এর আগে এই প্রয়োজনীয় বসবাসের সময়সীমা ছিল মাত্র পাঁচ বছর, যা একলাফে দ্বিগুণ করা হলো। তবে নতুন আইনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর সংগঠন ‘সিপিএলপি’-এর সদস্য দেশের নাগরিকদের জন্য কিছুটা আলাদা শর্ত রেখে ন্যূনতম সাত বছর বৈধভাবে বসবাসের নিয়ম করা হয়েছে।
নতুন আইনের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনটি আনা হয়েছে সময় গণনার ক্ষেত্রে। এখন থেকে নাগরিকত্বের জন্য বসবাসের সময়কাল কেবলমাত্র রেসিডেন্স পারমিট বা রেসিডেন্স কার্ড ইস্যু হওয়ার চূড়ান্ত তারিখ থেকে গণনা করা হবে; অতীতে আবেদন বা ফাইল জমা দেওয়ার তারিখ থেকে সময় গণনার যে সুযোগ ছিল, তা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। অত্যন্ত কঠোর এই নতুন আইনে পর্তুগালে ইতিমধ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সুবিধা বা বিশেষ ছাড় রাখা হয়নি। ফলে যারা আগের পাঁচ বছরের নিয়ম মাথায় রেখে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের অনেককেই এখন নতুন ১০ বছরের দীর্ঘ সময়সীমার গ্যাঁড়াকলে পড়তে হচ্ছে। এই নিয়মের কারণে বিশেষ করে ডি৭, ডি৮ এবং গোল্ডেন ভিসার আওতায় থাকা অভিবাসী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে, কোনো ব্যক্তি পর্তুগালে বসবাসের মাঝপথে সাও তোমে ও প্রিন্সিপে বা অন্য কোনো সিপিএলপি দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করলে ১০ বছরের পরিবর্তে ৭ বছরের সুবিধা পাবেন কি না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি ব্যাখ্যা বা আইনি নজির না থাকলেও, পর্তুগিজ আইনজীবীদের মতে, প্রথম রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার তারিখ থেকেই সময় গণনা শুরু করে তারা ৭ বছরের সুবিধা পেতে পারেন; তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ই ডিসেম্বর পর্তুগালের সাংবিধানিক আদালত নাগরিকত্ব বাতিল ও ফৌজদারি দণ্ড সংক্রান্ত কয়েকটি ধারাকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিলটি পার্লামেন্টে ফেরত পাঠিয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে চলতি বছরের ১৮ই মে কার্যকর করা হয়। সরকারের মতে, দ্রুত ইউরোপীয় পাসপোর্ট পাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করে যারা দীর্ঘমেয়াদে পর্তুগালে থাকতে চান, তাদের উৎসাহিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস বাংলা


