পর্তুগালে কথিত ‘ভ্যাট ক্যারোসেল’ জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ ক্ষতির অভিযোগে ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
‘অপারেশন হার্মিস’ নামে পরিচালিত অভিযানে পর্তুগালের বিচারিক পুলিশ (পিজে), কর কর্তৃপক্ষ ও ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড (জিএনআর) অংশ নেয়। ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিসের (ইপিপিও) নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তের অংশ হিসেবে পর্তুগালসহ ইউরোপের আটটি দেশে অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স ৩০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধী চক্র গঠন, কর জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক পণ্য কেনাবেচার আড়ালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে ভুয়া কোম্পানি তৈরি করে এই জালিয়াতি করা হতো। এসব কোম্পানির কোনো কোনোটি কর পরিশোধ না করেই কার্যক্রম বন্ধ করে দিত। পরে চক্রের অন্য কোম্পানিগুলো ওই লেনদেনের ওপর পর্তুগালসহ সংশ্লিষ্ট দেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে ভ্যাট ফেরতের আবেদন করত।
পর্তুগালের দুটি পৃথক তদন্তে দেশটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ যথাক্রমে অন্তত ১২৫ মিলিয়ন ও ৩০ মিলিয়ন ইউরো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে পর্তুগালের বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৪৮টি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। জব্দ করা হয়েছে ২৬টি সম্পত্তি, ১৮টি কোম্পানির শেয়ার, ৮০টি গাড়ি, বিলাসবহুল বিভিন্ন সামগ্রী ও ব্যাংক হিসাব। এছাড়া চারটি উচ্চক্ষমতার গাড়ি এবং ইউরোসহ বিভিন্ন মুদ্রায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও জব্দ করা হয়েছে।
ইপিপিও জানিয়েছে, পর্তুগাল, স্পেন, ইতালি, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, মাল্টা ও নেদারল্যান্ডসে চালানো অভিযানে মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে পর্তুগালে ৩৯, স্পেনে ২০ এবং ইতালিতে তিনজন।
এ ছাড়া প্রায় ৩১০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের সম্পদ জব্দের জন্য পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও কোম্পানির শেয়ার জব্দের পাশাপাশি সম্পত্তি, বিলাসবহুল গাড়ি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণমুদ্রা মিলিয়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামিন দেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণে তাদের প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হবে।


