ইউরোপীয় ইউনিয়নের নবগঠিত ৫ বিলিয়ন ইউরোর ‘টেক স্কেল-আপ’ ফান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই পক্ষ। সোমবার আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের সম্মেলনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। ব্রেক্সিট-পরবর্তী শীতল সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হিসেবে দেখা হচ্ছে এই উদ্যোগকে।
ইইউ-এর এই নতুন তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো উদীয়মান ও শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানি বা স্টার্টআপগুলোর মূলধনী সংকট মেটানো। ২০২০ সালে গঠিত ‘ইউরোপীয় ইনোভেশন কাউন্সিল ফান্ড’-এর বিনিয়োগের সীমা ছিল মাত্র ৩০ মিলিয়ন ইউরো, তবে নতুন এই ৫ বিলিয়ন ইউরোর ফান্ডটি অনেক বড় অংকের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে ইউরোপীয় স্টার্টআপগুলো যেন অর্থের অভাবে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যুক্তরাজ্য এই বিশাল বিনিয়োগের অংশীদার হতে পারলে দেশটির বড় বড় টেক জায়ান্ট এবং উদ্ভাবনী কোম্পানিগুলোর জন্য ইউরোপের বাজারে বড় সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতার মাঝে ইইউ এবং যুক্তরাজ্য একে অপরের কাছাকাছি আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। বিশেষ করে ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্য ইইউ-এর ফ্ল্যাগশিপ গবেষণা প্রোগ্রাম ‘হরাইজন ইউরোপ’ এর সাথে যুক্ত থাকলেও স্টার্টআপে সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ থেকে এতদিন বঞ্চিত ছিল। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য চাইলে এই প্রোগ্রামের পূর্ণ অংশীদার হতে পারে এবং এ বিষয়ে আলোচনার দরজা এখন উন্মুক্ত। এই সহযোগিতা কেবল প্রযুক্তি খাত নয়, বরং দুই পক্ষের মধ্যে সামগ্রিক রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উষ্ণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: পলিটিকো


