পর্তুগালে গত এক দশকে অ্যালকোহলনির্ভরতা প্রায় চারগুণ বেড়েছে। তবে আক্রান্তদের মাত্র ২০ শতাংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে সতর্ক করেছে দেশটির আসক্তি ও নির্ভরতা বিষয়ক ইনস্টিটিউট।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা লুসাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনস্টিটিউটটির প্রেসিডেন্ট জোয়ানা তেইশেইরা বলেন, ‘সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে দেশ ব্যর্থ হয়েছে।’
তার মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার, প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তেইশেইরা বলেন, মাথাপিছু অ্যালকোহল সেবনের হারে পর্তুগাল বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দেশগুলোর একটি। দেশটিতে অ্যালকোহলনির্ভরতার হারও অনেক বেশি। গত এক দশকে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধির যে তথ্য বলা হচ্ছে, তা মূলত কর্তৃপক্ষের সংস্পর্শে আসা রোগীদের হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি গুরুতর, খুবই গুরুতর।’
কর্তৃপক্ষের শনাক্ত করা রোগীদের মধ্যে গড়ে মাত্র ২০ শতাংশ চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
অ্যালকোহলজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা অন্যান্য আসক্তির তুলনায় বাড়তে থাকায় অ্যালকোহল চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে ইনস্টিটিউটটি।
এর অংশ হিসেবে অ্যালকোহল চিকিৎসা ইউনিটগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে নতুন চিকিৎসা কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কর্মসূচি তুলনামূলক নমনীয়, আবার কিছু আরও কাঠামোবদ্ধ।
জোয়ানা তেইশেইরা বলেন, সবার জন্য একই ধরনের চিকিৎসার পরিবর্তে এমন কার্যকর চিকিৎসা কর্মসূচি চালু করাই তাদের অগ্রাধিকার, যার কার্যকারিতা প্রমাণিত এবং যা রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। এতে অ্যালকোহল চিকিৎসা ইউনিটগুলোর সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসাসেবার আরও সমন্বয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্য ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে অ্যালকোহলনির্ভরতা যে একটি রোগ এবং শনাক্ত ও নির্ণয়ের পর এর যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন—এ বিষয়ে এখনও মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তেইশেইরা।
তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত মদ্যপান নিয়ে উদ্বেগ
তরুণদের মধ্যে অল্প সময়ে অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল পান, যা ‘বিঞ্জ ড্রিংকিং’ নামে পরিচিত, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে ইনস্টিটিউটটির।
জোয়ানা তেইশেইরা বলেন, এ ধরনের পান অনেক সময় মানসিক ও আবেগগত সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত। অ্যালকোহল স্নায়ুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এটি মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মস্তিষ্কের বিকাশের সময়ে যেকোনো পরিমাণ অ্যালকোহল পানই বিশেষভাবে ক্ষতিকর বলে জানান তিনি।
তরুণদের জন্য প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে ইনস্টিটিউটটি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, পরিবার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে এসব কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ইনস্টিটিউটটির মতে, অ্যালকোহল ও অন্যান্য আসক্তিজনিত সমস্যার মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।
আসক্তিমূলক আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আওতায় স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে আসক্তির সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
জোয়ানা তেইশেইরা বলেন, আসক্তিমূলক আচরণ বলতে শুধু অবৈধ মাদককে বোঝায়—এমন ধারণা এখনও ব্যাপক। অ্যালকোহল, জুয়া, ভিডিও গেম এবং সমস্যাজনক মাত্রায় ইন্টারনেট ব্যবহারের মতো আচরণও একই ধরনের আসক্তির আওতায় পড়ে।


